বাড়ি তার বাংলা – বাঙলা/বাংলার গল্প

bari tar bangla poster

একটি শিশুর জন্মের সাথে সাথে জন্ম নেয় এক মা। সন্তান স্বপ্ন দেখা শুরুর আগেই মা স্বপ্ন দেখা শুরু করে। ছেলে আমার বড় হবে, অনেক বড়! লোকমুখে যার নামে রব উঠবে, সেই সুবাদে মা একটু গর্ব করে শুনবে তাঁর গর্ভদাত্রীর গুনগান- “আরে উনি অমুকের মা না, উনার ছেলেতো…”। মায়ের গর্ব করার এই একটা জায়গাই দখলে আছে, বাকিসব সরকারে দখলে। মানে বলছিলাম,… নাহ আর বলা যাবেনা পেদানি খাবো। তাই সন্তানের ছোট থেকেই মায়ের পরিশ্রমের কমতি থাকেনা কি করে সন্তানকে একটু সবার চেয়ে ঢের বেশি শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া যায়। কিভাবে একটু কষ্ট করে হলেও সন্তানের ভবিষ্যৎটা সিকিউর করা যায়, ধড়টা আর দশটা মায়ের সন্তানের চেয়ে উঁচু করা যায়। পরীক্ষা আসলে পরীক্ষার্থীদের চেয়ে মায়েদেরই পরিশ্রম করতে দেখা যায় বেশি।

আমার কথাই ধরুন, গ্রামে স্কুল ছিলনা এমনটা নয়। কিন্তু তারপরও মায়ের ইচ্ছা আমাকে ভাল স্কুলে পড়াবে সাধ্যের একটু বাইরে গিয়ে, সর্বোচ্ছ ত্যাগ শিকার করে তৎসময়ে উপজেলার সবচেয়ে ভাল স্কুল বলে ক্ষ্যাত স্কুলেই পড়িয়েছেন। বাবার আয়যে খুব একটা খারাপ ছিল তেমনটানা, নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তের কোঠায় স্থান করে নেওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। কিন্তু মা তা আর হতে দিলনা, মাস শেষে প্রাইভেট স্কুলের শিক্ষক যানা বেতন পায় তাঁর চেয়ে বেশি তুলে দিতেন ছেলের হাতে। ছেলে যাতে হোস্টেলে থেকে পড়াশুনা করে বাবা-মায়ের মুখ উজ্বল করতে পারে। বিজ্ঞানের ছাত্র হওয়ায়, নবম-দশমে হোস্টেলের শিক্ষকদের বাইরেও শিক্ষকের ব্যাবস্থা করে দিয়েছিলেন। যাতে ছেলের শিক্ষার কোন কমতে না হয়। আমিযে সবটা সুযোগ ভালভাবে ব্যাবহার করেছি তেমনটা নয় আবার একেবারে চেষ্টা করিনি তাও নয়। তবে হয়তোবা এতটুকু পারিনি যতটা সবাই আশা করেছিল যেমন: ৫ম এবং ৮ম-এর বৃত্তি। তখনকার সময়ে বৃত্তি পাওয়াটা ছিল অনেক সম্মানের যেমনটা আজকে বৃত্তি পেয়ে বাইরে যাওয়া। সেই দুই হাজার এগারোর কথা স্কুল পেরিয়ে হাতে ফলাফল পেতে যাচ্ছি, রাতে ঘুম আসছিলনা কি জানি হয়! আমার চেয়ে মায়ের চিন্তুা কখনোই কম ছিলনা, কারন সবার নানা কথা অগ্রাহ্য করে ভাল টাকা খরছ করে ভাল স্কুলে পড়িয়েছেন ভাল ফলাফল তাই সবার কাম্য। না হলে লোকের নাক ছিটকানো কথা সহ্য করতে হবে। তা সত্ত্বেও মায়ের কাছে আমার ঘুম হচ্ছেনা সেটাই মুখ্য ছিল। ফলাফল খুব একটা ভাল হয়নি মানে জিপিএ – ৫ কিংবা এ+ কিছুই পাইনি কিন্তু আশে পাশের সবার চেয়ে ভাল করেছিলাম তাতেই মা খুশি। ছাত্র হিসেবে খারাপ ছিলাম তেমনটা নয় কিন্তু নবম দশমে ছাত্রাবাসে একটু স্বাধীনতা পেয়েছিলাম যা সবচেয়ে ক্ষতিকর ছিল। স্বাধীনতার অপব্যাবহারে পড়াশুনা লাটে উঠেছিল। তারপর সাইফুরসে ইংরেজি শিক্ষা কিংবা ঢাকার কলেজে পড়াশুনা বা আজকে ব্লগে লেখা সে অনেক গল্প অন্যকোন দিন হয়তো আবার কোন লেখায় লিখে ফেলবো।

মূলকথায় আসি! যা বলছিলাম, সন্তানের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনার পাশাপাশি সন্তানের প্রতি যেমনটা ভাল করার একটা প্রচেষ্ঠা বা উদ্যোম তৈরী করে ঠিক তেমনটা মায়ের আকাঙ্খার মানদন্ড অনেক উচ্চে নিয়ে যায়। জীবন নদীতে ভেলা কখনো ভাসে কখনো ডুবে, সন্তানের জীবনেও ব্যার্থতা আসে। সন্তানের সফলতা মাকে যতটা উচ্চসিত করে ব্যার্থতা তার পোন:পুনিকভাবে পর্যসিত করে।

একটা সময় আসে যখন মায়েরা আর সন্তানের কি করতে হবে কি করবে ঠিক করে দেয়না। সন্তানকে নিজের মত করে এগুতো উৎসাহ প্রদান করে বুঝতে হবে ততোদিনে মায়ের সেই খোকা/খুকু মায়ের চোখে বড় হয়ে গেছে। বিষয়টা এমনযে রুগির চিকিৎসা ততদিনই করা যায় যতদিন রুগি ডাক্তারের কাছে আসে কিন্তু রোগি যদি চেম্বারেই না আসে তাহলে চিকিৎসা হবে কিকরে। ততোদিনে নতুন করে নতুন কারো হাতে ছেলে/মেয়ের দায়িত্ব সঁপে দিতে পারলেই বাঁচে।

বাড়ি তার বাংলার প্রথম অংশ কিছুটা এমন, কিন্তু এমন নয়। এ কেমন কথা! – সাপ মেরে লাঠি না ভাঙার চেষ্টা বৈকি।

বাংলা আমার মাতৃভাষা নাকি ভাষাই মা? মায়ের থেকে জন্ম নাকে মাকেই ধারন করছি? -সে এক জটিল ব্যাপার। প্রশ্নবোধক দেখলেইতো মাথা চড়কগাছ- কি বলতে কি বলে বসি! এই জন্যই বোধহয় ইন্টারভিউ দিতে গেলে গায়ে জ্বর এসে যায়।

জন্ম লগ্নে বাংলা ছিল সভ্য সমাজে অশ্লিল, সময়ের সাথে সাথে শিখিয়ে পড়িয়ে বাংলাকে সভ্যদের জন্য যোগ্য করে তোলা হল। মাঝে ইংরেজরা শিক্ষা দিতে গিয়ে বরং দূষিত করে দিল। সেই সুবাদে বাংলা ইংরেজদের খুশি করতে ইংরেজি ধারন করলো। দূষন গোছাতে বাংলার দায়িত্ব নিল পন্ডিতেরা সাজিয়ে গুচিয়ে ব্যাবহার যোগ্য করে দিল। মনে রাখার মত লেখনি বের হলো। কিন্তু অর্থসংযোগ কম থাকায় বাংলা বিজ্ঞাপনে আশ্রয় নিল ভারি রমরমা ব্যাবসা। সুসময় বেশিদিন টিকে না তাই বিজ্ঞাপন ছেড়ে পারিবারিক অনুষ্ঠানের পরিপত্রে স্থান করে নিল। কিন্তু এ বড় সামান্য তা দিয়েকি জীবন চলে। বাংলাকে কাজে লাগিয়ে বিপ্লব শুরু হল, রাজনিতিতে বাংলার বড়ই শুনাম। ছড়িয়ে পড়লো সব যায়গায়, কিন্তু রাজনিতিতে কাউকে আঁকড়ে থাকা যায়না তাই দলবদল। শেষে কয়দিন বামেরা বাংলাকে ব্যাবহার শুরু করলো কাজ শেষে তারাও ছুড়ে ফেলে দিল। আজ বাংলার ব্যাবহার হয় নিপিড়িতের স্তুতি লিখতে কিংবা প্রেমউপাক্ষান লিখতে, এখন বাংলার প্রেমের সময়: সিনেমায় বাংলার কাজ ছিল দারুন কিন্তু সেইবা কয়দিনের।

মাথা ঝাড়া দিয়ে বসুন গুলিয়ে ফেলছেন নাকি উপরের কথাগুলো মাথায় না ঢুকলে আবার পড়ি “বাংলা আমার মাতৃভাষা নাকি ভাষাই মা? মায়ের থেকে জন্ম নাকি মাকেই ধারন করছি?”

এই সিনেমায় বাংলাকে রূপক অর্থের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। জানিনা কতটুকু লিখতে পেরেছি! তবে চেষ্টা করেছি। এত অসাধারন সিনেমা বন্ধু শামিমের সৌজন্যে দেখা তাই শামিমকে অসংখ্য ধন্যবাদ। শ্বাশত চ্যাটার্জি এবং রাইমা সেন দুজনের অভিনয় দূর্দান্ত, এত সুন্দর করে এক্সিকিউট করায় রঙন চক্রবর্তীর লেখনি এবং পরিচালনার প্রশংসা করতে হয়। বাংলা প-ফ চ-ছ এবং বানানজনিত সমস্যার জন্য মাফ চাইছি, বাংলা মাকে এখনো সঠিকভাবে সম্মান করে উঠতে পারিনি। তবে অচিরেই তা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করবো।

সবটুকু পড়ে আশার জন্য অনেক ধন্যবাদ, এতো ধৈর্য কই পান!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।