Mucize – প্রকৃত শিক্ষা এবং তার অলৌকিকতা

Mucize - প্রকৃত শিক্ষা এবং তার অলৌকিকতা

!!!দুএক লাইন বড়দের ভাষা ব্যাবহার করা হয়েছে তাই একটু সাবধানে পড়ার অনুরোধ রইলো যদিও আমাদের ১৩-১৪ বছরের ছেলে-মেয়েরা এর চেয়ে আরও মারাত্মক ভাষায় পটু।

আমি সাধারণ রিভিউতে সিনেমার গল্প বলা পছন্দ করি না। এটা কেমন যেন নীতিবিরুদ্ধ মনে হয়। চেষ্টা করি লেখক কি বলতে চেয়েছেন তা সংক্ষেপে তুলে ধরার কিন্তু মিউসাজ এমনই একটি ছবি নিজের নীতিবিরুদ্ধ যেতেও দ্বিধা হয়না উপরন্তু লোক ঢেকে গল্প শুনাতে ইচ্ছে করছে।

প্রকৃত শিক্ষা এবং শিক্ষক কি করতে পারে তা তুলে ধরাই এই সিনেমার মূল উদ্দেশ্য। মূল ঘটনায় চলে যাই, হাত হিসপিস করছে, আর তর সইছেনা…!

পাহাড়ের পর পাহাড়ের মাঝে বিরাজমান এক গ্রাম, বাংলা লেখকরা যাকে সাধারণত প্রকাশ করে দূর-দূর হিমালয়ের পাদদেশের এক গ্রাম। যেখানে সরকারী রাস্তা পর্যন্ত পেীঁছেনী, দুর্গম পাহাড় পার হয়েই পৌঁচতে হয় গ্রামে। বছরের আটমাস তুষারেই ঢাকা থাকে বাকি চারমাস বসন্ত। এই ৮মাস গ্রামবাসীর জীবন জেলখানার কয়েদিদের মত, আল্লা-বিল্লা করে সময় পার করতে হয়।

গ্রাম প্রধানের ছয় সন্তান যদিও চারজন সন্তান বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে কারন, মেয়েরা-তো বিয়ে করে পরের বাড়ী গিয়ে পর হয়ে যায়! চার সন্তানের ২য় জন শারীরিক প্রতিবন্ধী, কোন এক ব্যামো কিংবা রোগের কারনে হাত পা বিকলাঙ্গ, বাঁকা মুখ আর জানোয়ারের মত অ-বোধগম্য ভাষা।

বসন্তের শুরুতে বাবারা তাদের সন্তানদের ডাক দেয়, কে কে বিবাহ করতে চায়? সাধারণত তাদের মধ্য থেকে বড়দেরকে আগে সুযোগ দেওয়া হয়। বাবা গৃহকর্তী কিংবা সন্তানদের মাকে ডেকে পাঠান ছেলের জন্য বউ খুঁজে আনতে। আর রীতি অনুযায়ী সন্তানরা মায়ের পিছুপিছু গিয়ে বলে কেমন মেয়ে তার চাই। নীল হরিণীর ন্যায় চোখ, মুক্তোর দানার মত দাঁত, উন্নত বক্ষ, ছিপছিপে কমর আর সুঢোল নিতম্ব। ছেলের মুখে নারী শরীরের এমন বর্ণনা শুনে মায়ের মুখে অজান্তেই বেরিয়ে আসে নির্লজ্জ! মা ছেলেকে আশ্বস্ত করে তাঁর জন্য সবচেয়ে ভাল মেয়েটিই বাঁচাই করবে।

শুরু হয় মা খালাদের মেয়ে দেখার হিড়িক। মেয়েকে শুরুতেই বরের মা খালাদের খোঁজ খবর নিতে হয়। কথার ফাঁকে মেয়ের মুখ থেকেকি গন্ধ বেরোয় কিনা কিংবা দাঁত দেখতে কেমন পরীক্ষা করে নেয়া হয়। তারপর দূরে গিয়ে বসতে বলা হয়, প্রশ্ন হয় ধর্মীয় বিষয়াদি, যেমন: কুরআনে কয়টি সুরা কিংবা সবচেয়ে বড় সুরা কোনটি, তাতে কত আয়াত কিংবা আয়াতটি তেলাওয়াত করে শুনাও। তারপর সোজা করে সুতা টানানো হয়, এবং কনেকে সেই সুতো বরাবর হেঁটে আসতে বলা হয়। এতে কমরের আন্দাজ ঠাহরে চলে আসে না হয় কাছে ডেকে নিশ্চিত হয়ে নেয়। বলে রাখা ভাল, রান্না-বান্নার খোঁজ খবর কিন্তু চলে; এটা রাঁধতে পারো, কিভাবে ইত্যাদি ইত্যাদি। বরের মা-খালা যখন সায় দেয় তখন কনের মা জিঙেস করে, ছেলে দেখতে কেমন আর সেই বর্ণনার ভিত্তিতে বিয়ে ঠিক হয়।

শহরে বসবাসরত এক সরকারী শিক্ষক, পোস্টিং হয়েছে এই দুর্গম গাঁয়ে। কোন মতে বউয়ের সাথে ঝগড়াঝাঁটি করে পাহাড়ি শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার মহা ব্রতে পাহাড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। শহর ছাড়িয়ে পাহাড়ি এলাকা আসা মাত্রই বাস আর সামনে এগুবে-না, সহজাত প্রশ্ন কেন? উত্তরও খুবই সহজ, সরকারী রাস্তা যে এখানেই শেষ। তো কিভাবে যাবো? -পায়ে হেঁটে!

একে পাহাড়ি দুর্গম পথ. মনে ঢাকাতের ভয় তার উপর হেঁটেই যেতে হবে। কিন্তু শিক্ষকতার মত মহান পেশায় এসব ভাবলে চলে? তাই পায়ে হেঁটে দুর্গম পাহাড় পেরিয়েই তবে ছেড়েছে।

নতুন অতিথি এখানে স্বানন্ধে বরন হয়না কারন, এ গ্রামে ডাকাত ছাড়া আর কেউ পা রাখে না। বন্ধুকের নলের সামনে পড়ে শিক্ষকের যান যায় যায় অবস্থা, মুখে একটাই কথা, আমি শিক্ষক! লোকটাকে দেখে সবাই যতটানা ভয় পেয়েছে, তাঁর চেয়ে বরং শিক্ষক শুনে বেশি চমকে গেছে। কিন্তু স্কুল কই? স্কুল ছাড়াতো শিক্ষক নিয়োগ হয়না? হ্যাঁ এখানে তাও সম্ভব। যেখানে, শিক্ষক আসি আসি করে ৩০ বছর কেটে গেল। স্কুল আসতে আরও ৩০ বছর লাগবে এটাই স্বাভাবিক! কথায় কথায় উঠে আসলো, এখানে মেয়েদেরকে স্কুলে পাঠাত কেউ রাজী না কারন, সেই পুরনোটাই: মেয়েরা-তো বিয়ে করে পর হয়েই যাবে। এত বিদঘুটে পরিস্থিতিতে পড়ে শিক্ষা দেওয়ার মহাব্রত কবেই উড়ে গেছে। এখন এখান থেকে পালিয়ে যেতে পারলেই হয়।

গ্রাম প্রধান এবং আরও একজন (নাম হায়দার) সহ শহরে এসেছে মেয়রকে জিঙেস করতে স্কুল ছাড়া শিক্ষক কি করবে? যদিও গ্রামবাসীর আবেদন ছিল, গোয়াল ঘরকে স্কুল বানানো যায় কিনা কিন্তু বাচ্চারাতো আর জানোয়ার না। মেয়রের কথা শুনে যা বোঝা গেল দেশে সামরিক শাসন জারি হয়েছে, পুরাতন নেতারা একেকজন করে দলিতে ঝুলছে! এ অবস্থায় কোন কিছু চাওয়া কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার চেয়ে সেনাবাহিনী জিন্দাবাদ বলে জীবন বাঁচানোই ফরয। শিক্ষক মাহির গ্রাম প্রধান দাউদের সাথে এই মর্মেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সে আর এখানে থাকছে না। কিন্তু একটি অস্থি বা হাড়ের ছোট টুকরার দিকে নজর পড়ে,এই অস্থিটি গ্রামে আসায় শিক্ষক মাহিরকে সম্মানস্বরুপ দেয় এক ছেলে। এদের রীতি অনুযায়ী এর অর্থ আমি/আমরা আপনাকে ভালবাসি।

জ্ঞান বিতরণের মহাব্রত আবার জাগ্রত গ্রামে পড়াতে রাজি কিন্তু একটা শর্ত মেয়েদেরকে পড়তে দিতে হবে, গ্রাম প্রধানের চোখ ঝলমলে। কিন্তু স্কুল আসিবে কোত্থেকে। মাহির তার স্ত্রীর কাছে টেলিফোন করে এই বলে যে, ডাকাতের পাল্লায় পড়েছে বন্ধুকের নলের নিচ থেকে কথা বলছে আর ২০০০ টাকা না পেলে মেয়েরা আর বাবার মুখ দেখবেনা তুমি হবে বিধবা.. ইনিয়ে বিনিয়ে এমনভাবে বলেছে যে আর না করতে পারেনি। এ টাকাতেই স্কুল হবে, শহরে যাওয়ার পথে একদল ডাকাতের সাথে দেখা হয়। ঘোড়ায় চড়া হাতে বন্দুক; গ্রাম প্রধান দাউদ, মাহিরকে আশ্বস্ত করে এই বলে যে, এরা ডাকাত নয় বরং এরা পাহাড়ের নিরাপত্তা রক্ষক। যদিও বাইরের দুনিয়ায় এরা ডাকাত/সন্ত্রাস হিসেবেই পরিচিত।

গ্রামে ফিরে স্কুলের কাজ শুরু না করতেই ডাকাত/রক্ষক দল হাজির। স্কুলটা তারাই করে দিতে চায়, কারন এখানকার মাটি বালু সিমেন্ট এদের চেয়ে কেউ ভাল চিনে না। মাহির-তো নারাজ, কারন সরকার জানলে একেবারে জেলে পুরে দিবে। গ্রাম প্রধান আশ্বস্ত করে এদের চেয়ে দ্রুত এবং ভালভাবে কেউ পারবেনা তাই মাহির রাজি হয় কিন্তু ধরা খেলে ও কিন্তু কাউরে চিনে না!

স্কুল হল, বাচ্চারা পড়াশুনা করছে; বাবা মায়েদের মুখে হাসির ঝিলিক। তারা পড়তে পারে নিতো কি হয়েছে? অন্তত তাদের সন্তানরা তো সুযোগ পাচ্ছে। গ্রামে ঢোকার সময় মাহিরের চোখে ঘোড়ার সাথে বিড়বিড় করা আজিজের দেখা, বাচ্চা ছেলেদের প্রত্যহ ঢিল ছোড়া কিংবা নানা যন্ত্রণার মাঝেই যার বেড়ে উঠা। মাহির বাচ্চাদেরকে এই বলে শাসায় যে, আজিজকে বিরক্ত করলে কিন্তু চকলেট পাবেনা। যাক, বাঁচা গেল। প্রথম থেকেই আজিজের স্কুলের প্রতি আগ্রহ, মাহিরের বিশ্বাস শিক্ষার বদৌলতে সবি সম্ভব। তাই আজিজকে একটু আধটু করে পড়ানোর চেষ্টা। আজিজের ক্রমবর্ধমান উন্নতি দেখে লোকমুখে রা-রা শিক্ষক মাহির আশীর্বাদ স্বরূপ। কবিরাজে যা পারেনি, মাস্টার মশায় তা করে দেখাচ্ছে; মাস্টার মশায় বোধহয় শেখেদের চেয়েও বড় শেখ। এসব দেখে গ্রাম প্রধান দাউদের আনন্দ অশ্রু দেখে কে!

চেমিলো গ্রাম প্রধানের বড় সন্তান বাবার প্রতি অপমান দেখে খুন করে আজ বছর দশেক ধরে ফেরারি। চেমিলোর স্ত্রী অপেক্ষা করতে করতে হয়রান। হঠাৎ করে গ্রামে তার দেখা উলু ধ্বনিতে তাকে বরন করে নেয় তার স্ত্রী। এত শঙ্কার মাঝে পালিয়ে পালিয়ে না বেঁচে পুলিশে ধরা দিলেইতো হয়। যেই ভাবা সেই কাজ পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যায়।

একে একে সবার বিয়েইতো হল কিন্তু আজিজ, কে বিয়ে করবে তাকে? চেমিলোকে দেখতে আদালতে এসে যখন ফিরছিল দাউদ তখন ছেলেকে দেখে তার সন্দেহ হল, যেই ভাবা সেই কাজ। দূরে দাড়িয়ে থাকা ভদ্রলোকের দিকে রিভলভার তাক করতেই লাঠির বাড়িতে হাত থেকে রিভলভার ফেলে দেয় দাউদ। এ যাত্রায় ভদ্রলোকের প্রাণ রক্ষা। ভদ্রলোক কাছে এসে দাউদের প্রশংসা করছিল আর বলছিল এ জীবন আপনি বাঁচিয়েছেন এ জীবন আপনার বলুন আপনার কি লাগবে? আপনার দাশ হয়ে থাকতেও আমি রাজি। দাউদের উত্তর, না ভাই কিছু লাগবেনা, সাবধানে থাকবেন। কথা শেষ করে সামনে পা বাড়াতে উদ্ধত না হতেই পেছন থেকে ভদ্রলোকের প্রশ্ন আপনার কি কোন অবিবাহিত চেলে আছে? দাউদ বলল হ্যাঁ। ভদ্রলোক বলল তাহলে তাই সই, আমার এক কন্যা আছে তার সাথে আপনার ছেলের বিয়ে দেব ওয়াদা রইলো। কিন্তু মাহিরের জবাব আমার ছেলেতো প্রতিবন্ধী। কি আর করা ওয়াদা-তো দিয়েই ফেলেছি আপনার ছেলের সাথেই আমার মেয়ের বিয়ে।

শহর থেকে গ্রামে ফিরে দাউদ আজিজের মাকে ঢেকে পাঠালও মেয়ে দেখতে যেতে হবে। যাক এবার তাহলে আজিজের হিল্লে হয়, প্রথা অনুযায়ী মাকে আজিজ কেমন বউ আনবে বলার চেষ্টা করছে কিন্তু আজিজের মুখের ভাষা বোঝার সাধ্যি কার আছে। মেয়ে বাড়িতে এসে মেয়েকে ডাকলো, মেয়ের কথা, মুখের হাঁসি, সৌন্দর্য দেখে আজিজের মা-খালাদের চোখে জল এসে গেল এই ভেবে যে এতো সুন্দর মেয়ের জীবনটা নষ্ট করছি? চোখে পানি দেখে মেয়ের মায়ের জিঙাসা, চোখে পানি কেন? কি জবাব দেবে চোখে কি যেন পড়েছে বলা ছাড়াকি আর গতি আছে!

মেয়ে শিক্ষিতা, ধর্মীয় জ্ঞান কিংবা রান্না সম্পর্কে পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত। কিন্তু আজিজের মা কি জিঙেস করবে খুঁজে পাচ্ছেনা। এমন সুন্দর মেয়ে হরিণীর ন্যায় নীল চোখ, মুক্তোর দানার মতো দাঁত, মনভোলানো শরীর যেমনটা সবাই আশা করে আবার শিক্ষাও আছে, মেয়ে-তো পছন্দ। এবার মেয়ের মা জানতে চায় ছেলে কেমন, “প্রতিবন্ধী”। সভা নির্বাক, যা হবার তাই হল বিয়ে হলো; কনে ঘোড়ায় করে বরের বাড়ি আসলো কিন্তু মেয়ের বাবা মায়ের মুখের দিকে তাকানো যায়না, বোধহয় মনে মনে ভাবছে, এ আমি কি করলাম।

শ্বশুর বাড়ি পৌঁচেই কি রোদন। আজিজের মা এসে বলল মা, যা হবার তা হয়েই গেছে এ ছিল তোমার ভাগ্যে! এতো কেঁদোনা, এতদিন আমি ছিলাম আজিজের মা আজ থেকে তুমি আজিজের স্ত্রী, মা সব; আমার আজিজের খেয়াল রেখো। যেমন করে রবীন্দ্রনাথের হৈমন্তীকে তার বাবা জামাইর হাতে তুলে দিচ্ছিল, ঠিক তেমন করে।

সবসময় যা হয়, বরের চেয়ে চারপাশের মানুষগুলো বেশি উৎসাহী থাকে, বাসর ঘরে কি রীতি নীতি পালন করতে হবে সেসব-তো আছেই সাথে কানে কানে অতি প্রাচীন শিক্ষা। যদিও পরক্ষনে তাদের মুখেই দুশ্চিন্তার চাপ একি পারবো মনে হয়না!

ঘরে ডুকেই ঘরে রাখা পাখির এক হেঁচকা টানে ধড় আলাদা করতে হয় কিন্তু আজিজ তা করেনা বরং পাখিটাকে ছেড়ে দেয়। ভয় নয় বরং ভালবাসা দিয়েই নতুন জীবন শুরু করতে চায়। বিকল হাত মাস্টার মশায়ের শারীরিক চর্চায় মাত্র সেরে উঠা শুরু করেছে, সেই হাতেই নতুন বধূর ঘোমটা সরানোর চেষ্টা কিন্তু সেকি হয়। বধূ নিজেই নিজের ঘোমটা সরিয়ে নেয়। তা দেখেইতো আজিজ সাথে সাথে মাটিতে চিৎ পটাং! এমন সৌন্দর্য দেখলে-তো যে কারোই অজ্ঞান হওয়ার কথা। প্রথম দিনতো ভালোয় ভালোয় কেটে গেল। আজিজ প্রতিবন্ধী হওয়ার দরুন নিজে নিজে গোসল করতে পারেনা। এতদিন মা-ই গোসল করিয়ে দিতে আজ মিজগিন( আজিজের বউ) গোসল করিয়ে দিয়েছে। এ শুনে মায়ের সেকি আনন্দ, এবার শান্তিতে মরতে পারবো। উত্তরে মিজগিন বলেছিল, আজিজ আমার স্বামী, সন্তান, বাবা আমার সবকিছু। এর চেয়ে বউয়ের থেকে মায়ের কি-ইবা চাওয়ার থাকতে পারে।

সবকিছুই ঠিক চলতেছিল, বউয়ের আদর ভালোবাসা এবং মাস্টার-জীর পরিশ্রমে আজিজ ক্রমে স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এ সমাজ, মানুষের ভাল সহ্য করতে পারেনা। আজিজকে সবাই আগের মতো উত্যক্ত করা শুরু করে, বউয়ের সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলে এমন প্রশ্নও করে বসে যে “ফুটো খুঁজে পেয়েছিস?” আজিজ তেড়ে আসে কিন্তু তাতে কি যায় আসে। আজিজ এ সবে অভ্যস্ত, পার্থক্য এটুকুই আগে বাচ্চারা বিরক্ত করতো এখন দামড়ারা। অপরদিকে পাশের বাড়ির বউ-মেয়েরা মিজগিনকে বিরক্ত করা শুরু করে শুরু হয় আহা বেচারি বলে, এই পঙ্গু-কি পারে তোমাকে সেটিসফাই করতে। যৌবনটা রসাতলে গেল বলে! ক্রমে ক্রমে আরও বিশ্রী হতে থাকে। সবার সামনে, চোখ দেখানো দায় হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। আজিজ দু-এক বার তেড়ে আসে কিন্তু প্রতিবন্ধীকে কে-ইবা দাম দেয়। আজিজের বাঁকা হাতে চোখের জল মুচে দেওয়ার কষ্টসাধ্য চেষ্টাই মিজগিনের প্রাপ্তির শেষ জায়গা।

শেষমেশ আজিজ বউ নিয়ে রাতের আধারে গ্রাম ছেড়ে পালায়। আজিজ লোকের উত্যক্ত করায় সেই ছোট থেকেই অভ্যস্ত কিন্তু যখন সেটা মিজগিনের উপরেও শোয়ার হয় তখন গ্রাম থেকে পালানো ছাড়া উপায়ন্তর থাকেনা। যাবার সময় একটা চিঠি রেখে যায়, মাস্টার মশায় সবাইকে পড়ে শোনায়। আধো আধো বলা শব্দগুলো যেন আক্ষেপের শুরে মধুর হয়ে সবার কানে ঝরছে। মাস্টার মশায়ও এর পর গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি দেয়।

আজ ৭ বছর পর মাস্টার মশায় গ্রামে ফিরেছে সাথে তার স্ত্রী। কিন্তু সবচেয়ে বড় চমক আজিজকে দেখে! মাস্টার মশায় আজিজকে সাথে করে নিয়ে এসেছেন। গাড়ি থেকে নামল একটি ছোট ছেলে ৫-৬ বছর বয়স তার হাত ধরে নামল সুটেড-বুটেড এক লোক; একি সেই প্রতিবন্ধী আজিজ? সবার চোখ ছানাবড়া। ওপাশ থেকে বেরিয়ে আসলো মিজগিন হাতে ছোট একটা বাবু দেখতে পুরো ম্যাম সাব।

আজিজ আজ কথা বলতে পারে, সোজা হয়ে হাঁটতে পারে। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে আজিজের সবার সামনে প্রথম কথা, “আমি আমার বউকে ভালবাসি”


প্রকৃত শিক্ষা এবং শিক্ষক সবার জন্য কতটুকু অলৌকিক হতে পারে, তা তুলে ধরাই এই সিনেমার মূল উদ্দেশ্য। শিক্ষা এবং নারী শিক্ষাকে এখানে সুনিপুনভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অভিনয়, গল্প, ডায়ালগ কোথাও কোন কমতি নেই সময় করে দেখে ফেলতে পারেন। আমার বকবকির কিছুটা বিরক্তিকর হতে পারে কিন্তু মিউসাজ অত্যন্ত সুন্দর একটি গল্প।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।