বাংলাদেশী চলচিত্র এবং সরকারের জন্য সতর্কবানী ভারতীয় তামিল ভাষার চলচিত্র “আরাম্ম” কিংবা “ভাল কর্ম”-এ

সেদিন ছিল শুক্রবার ৪ বছর বয়সী জিহাদ খেলছিল আর পাশেই বলির অপেক্ষায় থাকা পলিথিনে ঢাকা বাংলাদেশ রেলওয়ের গভীর নলকূপের হা করা মুখ। সেদিন বিকেলে আমাদের কর্তা ব্যক্তিদের ভুলের জন্য পাইপের ভিতরে পড়ে গিয়েছিল এক মায়ের কলিজা একটি তাজা প্রাণ। না সেদিন প্রধানমন্ত্রীর অথবা বিরোধী দলের নেত্রীর সন্তান কিংবা নাতী/নাতনী গর্তে পড়েনি কিংবা উঁচু গলায় বলা ভিতরে কিছু নেই সেই নেতাদের সন্তান কিংবা দৌহিত্র। কারন তাঁরা এমন স্থানে কখনো খেলতে আসে না। তাদের জীবনধারাই আলাদা… গর্তে পড়েছিল এক সিকিউরিটি কর্মকর্তা বাবার সন্তান জিহাদ।

টানা ২৩ ঘণ্টা চেষ্টার পর জীবন রক্ষাকারী ফায়ার সার্ভিস শনিবার দুপুর আড়াইটায় হাল ছেড়ে দেয়। কিন্তু সাধারণ জনগণ হাল ছাড়তে জানে না তাই নিজস্ব প্রচেষ্টায় বিকাল ৩টার ভেতরেই জিহাদকে উদ্ধার করে আনে কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ততক্ষণে হয়তো উপরওয়ালা, কথায় কথায় চেতনা বেচে খাওয়া বাংলাদেশিদের উপর বিরক্ত হয়ে নিষ্পাপ জিহাদকে উপরে তুলে নিয়ে গেছে, আর কত?

সবশেষে কি হল, ২০১৭তে এসে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধারা ৩০৪ এর “ক” অনুসারে জরিমানাসহ অথবা জরিমানা ছাড়া সর্বোচ্ছ ৫ বছরের সাজা। খেলা শেষ আমাদের দায়িত্ব শেষ; নেতার চোখের পানি আর কাঁদো সুরের মিষ্টি কথায় ভুলেই গেলাম, এমনতো আরও হতে পারে… আমাদের প্রস্তুতি কতটুকু?

নয়নতারা অভিনীত আরাম্ম এর গল্পটা ঠিক এমনি যেখানে রাষ্ট্র-যন্ত্রের রন্ধে-রন্ধে দুর্নীতি বিরাজমান। সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হয়েও যেখানে সাধারণ একটি দুর্ঘটনায় জনগণের পাশে এসে দাঁড়াতে পারছে না। কারন তাঁর সরকারই এসব দুর্নীতিবাজদের পোষক। এক গরিব বাবার গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে যাওয়া মেয়ে ধানশিকা এবং তাঁকে উদ্ধার নিয়ে গড়ে উঠা বিস্তর গল্প।

সিনেমায় যেমন হ্যাপি এন্ডিং থাকে কিন্তু আমাদের গরিব প্রজাদের ভাগ্য এতটা প্রসন্ন নয়। আমাদের ভাগ্য “যেই লাউ সেই কদু” কার কি আসে যায়? নেতার ছেলেতো আর জায়গায়-বেজায়গায় খেলতে আসে না, ডাক্তার-বিহীন সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা-হীনতায় মরেনা! নেতার জন্য সরকারী টাকায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা কিংবা বিদেশে উচ্চশিক্ষা মেলে আর খেলাধুলার মাঠ, সেনিয়ে ভেবোনা…

আমাদের বিজ্ঞ চলচ্চিত্রকার কিংবা “ক্যাপ্টেন অব শিপ”-দের কাছ থেকে কি এমন কিছু আশা করতে পারিনা নাকি গৎবাঁধা গল্পের বাইরে কিংবা সরকার তোষামোদিতে মগ্ন থাকায় ওনারা কিছু চোখে দেখে না? আমাদের চোখের সামনে ঘটা ঘটনা যদি আমাদের চলচ্চিত্রে তুলে ধরতে না পারি, তবে কি পারি?

বিদ্র: মাফ করবেন অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ছেলে বা নেতা শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। আদতে, আমি এতোটা রেসিস্ট নাহ! 😛

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।