কারওয়ান – যখন আমি থাকবনা!!! কি করবিরে বোকা..?

এই আধুনিক নগর জীবনে বাবা-মা শুধুমাত্রই দুটি শব্দ। ব্যস্ত জীবনে ৯টা ৫টা ডিউটি করে কিংবা বন্ধু বান্ধবদের সাথে আড্ডা দিয়েই সময় পার। বাবা-মা মানুষ দুটোকে নিয়ে ভাবার সময় কই?

কিন্তু এই মা শব্দটা পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম এবং সবচেয়ে মধুর শব্দ। পড়াশুনো করে আমরা কেউ ডাক্তার হই নানাজনের সেবা করে বেড়াই, কেউবা ইঞ্জিনিয়ার হই প্রতিনিয়ত জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করে যাই, কবি হয়ে শ্রুতিমধুর ছন্দের কাব্য লিখে যাই কিংবা চিত্রকার হয়ে চারপাশের দুনিয়াকে নতুন রূপে তুলে ধরি। কিন্তু একজন মা এক জীবনে এসবের সবকিছুই হতে হয় তাঁর সন্তানকে বড় করতে গিয়ে। সন্তান বড় হয়, নিত্যনতুন জ্ঞান আহরণ করে জানার-বুঝার পরিধি বাড়ে আর সেই মাকেই ছেড়ে চলে যায়। মা এতই মহান যে তা-ও মেনে নেয় বাকি জীবন শুধু সন্তানের চিন্তা করেই কাটিয়ে দেয়।

বাবা একটি জটিল শব্দ। বিধিনিষেধ চাওয়া-পাওয়া সব এই লোকটার কাছ থেকেই আসে। তাই সন্তানের সাথে বাবার সম্পর্কটা ততটা ভাল হয়না যতটা সম্পর্ক মায়ের সাথে। বাবার বিধি-নিষেধগুলো ম্বৈরাচার সরকারের চেয়েও কঠোর মনে হয়। কখনো কখনো বাবার বিরুদ্ধাচরণও করে বসি আমরা। আমরা নিজেদেরকে অনেক বুদ্ধিমান প্রাণী মনে করা শুরু করি আর ভুলে যাই বাবাও জীবনে আমার মতই একজন সন্তান ছিলেন, অনেক ছড়াই উৎরাই পার করেই আজকের অবস্থানে। সুতরাং আমার জন্য বাবার নেওয়া সিদ্ধান্ত বাবার দীর্ঘ জীবনের লব্ধ জ্ঞানেরই ফসল। আমরা একটা সময় বুঝতে পারি – বাবাই সঠিক কিন্তু যতদিনে একজন সন্তান তাঁর বাবাকে সঠিক বলে মনে করে ততদিনে তাঁকে ভুল বলার জন্য তাঁর সন্তান উঠে দাঁড়ায়। আমাদের বাবারা কতটা ভাল সেটা বলতে পারবো না কিন্তু তারা খারাপ নয়! আজকের দিনে খারাপ না-ই অনেক।

যতদিনে একজন সন্তান তাঁর বাবাকে সঠিক বলে মনে করে ততদিনে তাঁকে ভুল বলার জন্য তাঁর সন্তান উঠে দাঁড়ায়।

– কারওয়ান

ওপরের অংশটুকু পড়ে হয়তোবা মনে মনে ভাবছেন। সবাই বাবা-মাকে অনেক ভালবাসে তাদেরকে ভুল বলার মতো মানুষ আছে নাকি জগতে? কিন্তু একটু পেছন ফিরে দেখবেন কি? এইতো সেদিন নিজের পছন্দের প্রফেশন বেঁচে নিতে চেয়েছিলেন কিন্তু বাবার ঠায় মানা ওসব হবে না! ওসবে টাকা পয়সা নেই। মনে মনে ভেবেছিলেন তুমি কোন *ল বুঝো। আমি আমারটা ঠিকই বুঝি…

আবার সেদিন পাশের বাড়ির জরিনাকে মন দিয়ে বসলেন কিন্তু বাবা-মায়ের ঠায় মানা হবেনা। আপনি ফেরেশতা কিনা জানিনা তবে খুব কমই তখন বাবা-মাকে সঠিক মনে করে। আমরা এক সময় বুঝতে পারি বাবা-মা-ই ঠিক ছিল কিন্তু সেদিন তাদেরকে আর পাশে পাওয়া যায়না। কারন সময় বড় নিদারুণ…

আমাকে প্রায়শই অনেকে দুলকার সালমানের হিন্দি ডাবড সিনেমা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। কিন্তু মালায়লাম সিনেমার হিন্দি ডাব খুব কমই হয়। আপনি যদি ওই ডাবখোরদের একজন হোন তাহলে বলবো দুলকারের অভিনয়ে-র ঝলক দেখার জন্য এই সিনেমাটি দেখতে পারেন, ভাষা হিন্দি। দুলকারের পাশাপাশি এই সিনেমায় আছেন ইরফান খান, মিথিলা পালকার এবং কৃতি খারবান্দা। বলে রাখা ভাল দুলকার সালমানের প্রথম বলিউড সিনেমা এর পরিচালনা এবং চিত্রনাট্য লিখনিতে আছেন আকার্ষ খোরানা যিনি এর আগে কৃষ , কৃষ ৩ এবং কাইটসের মত সিনেমার চিত্রনাট্য লিখে ছিলেন।

জনরার দিক থেকে কমেডি এবং ড্রামা, আমার উপরের লেখা-গুলো পড়ে মনে হতে পারে সিরিয়াস কোন সিনেমা কিন্তু না ইরফান খান আর তার মুখ নিঃসৃত ডায়ালগ আহ মধু! হিউমার ভাল ধরতে পারলে পুরো সময় ধরে হেঁসেই যাবেন। ডায়ালগের কথা বলতে গেলে ইরফান খানের প্রথম ডায়ালগ পুরো সিনেমার গল্পের সারাংশ। ডায়ালগটি এমন-

ওরা আমাকে জীবন্ত পুঁতে দিল এই ভেবে যে আমি মরে যাবো।কিন্তু ওদের জানা ছিলনা আমি তো বীজ, আমার দাফনই আমার পুনরুত্থান।

– কারওয়ান

বাবা মাকে মাটির নিচে শুইয়ে আসার পরই আমরা বুঝতে পারি বাবা মায়ের মূল্য তাঁদের স্মৃতিগুলো তখন চারপাশ ঝেঁকে বসে। যেন তাদের দাফনই তাদের পুনরুত্থান…

সময় করে দেখে নিতে পারেন, প্রথমদিকে একটু স্লো মনে হলেও সময়ের সাথে আপনাকে রীতিমত টক্কর দিতে হবে গল্পের সাথে। বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তগুলো বোঝার জ্ঞান ঈশ্বর আমাদের দান করুন এবং তাদের জন্য সময় বের করে নেওয়ার মত সময় আমাদের দিক সেই প্রত্যাশায়…

Comments

  1. মোঃ মেহেদী হাসান সুমন

    Dialogue দুইটা খুব ভালো লাগলো। আসলে বাস্তবতা বুঝে উঠতে যে সময় লাগে সে সময়ে করে আসা ভুলের জন্য বাস্তব সময়ে একটু হোঁচট খেতে হয়।

    1. Post
      Author

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।