রোমান সাম্রাজ্য – রক্তবর্নে যার জন্ম |স্পয়লারযুক্ত প্রথম কিস্তির প্রথম পর্বের সারসংক্ষেপ

পৃথিবীর বৃহৎ প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয় কম্মোডিয়াস এর হাত ধরে। বলা হয়ে থাকে তৎসময়ের পৃথিবীর জনসংখ্যার প্রতি পাঁচ জনে এক জন রোমান সাম্রাজ্যের বাসিন্দা। কম্মোডিয়াস ছিল মার্কাস ওরেলিয়াসের এক মাত্র পুত্রসন্তান। রোমান সাম্রাজ্যে নিজের ছেলেকে পরবর্তী সম্রাট হিসেবে কেউই দেখতে চাইতো না কিংবা তাদের সে যোগ্যতা থাকতো না। সাম্রাজ্যের অধিপতির সন্তানদের আরাম আয়েশ আর খারাপ গুন অর্জন দিয়েই সময় কেটে যেত, ভাল গুন অর্জনের ফুরসত কই? কিন্তু মার্কাস ছেলের জন্মের পর থেকেই ঠিক করে নিয়েছিল ছেলেই হবে পরবর্তী সম্রাট।

আর দশটা সম্রাটের ছেলেদের মত কম্মোডিয়াসও ছিল এক নিকম্মা। আরাম আয়েস আর নারীবাজিতেই যার সম্রাট হওয়ার স্বপ্ন কুপোকাত। হঠাৎ একদিন মা ফাউস্টিনা এসে বলল অনেক হল, এবার বাপের সাথে যুদ্ধের ময়দানে চলো যদি কিছু শিক্ষে হয়।

বলে রাখা ভাল সেসময় যুদ্ধ চলছিল জার্মেনিয়ার সাথে। রোমান সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ বলা চলে এদের ২৫০ বছর এর ভৈরীতা এই বর্বরদের সাথে। কম্মোডিয়াসের শিবিরে পৌঁচেই এমন ভাব যে যত দ্রুত শেষ হয় ততই ভাল। এসেই অতি প্রাকৃত প্রাচীন কর্মে লিপ্ত হয়ে গেছেন। বাবা মার্কাস এর প্রাণান্তর চেষ্টা সন্তানকে সাম্রাজ্যের যোগ্য করে তোলা। অপরদিকে, সন্তান দু একবার চেষ্টাতেই হাঁপিয়ে যাচ্ছে এসব কি সম্ভব? একজন সাধারণ সৈনিকের মত সম্রাটের ছেলে কিভাবে প্রশিক্ষণ নেয়!!!

বাঙলা সিনেমার বাবাদের মত মার্কাসের বুক ব্যাথার সমস্যা ছিল। এটাকি ক্যান্সার নাকি কোন হার্টের সমস্যা ইতিহাসবেত্তারাও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি! এ খবর দূত মারফত রোমে পৌঁছায়, কিন্তু সামছুর রহমানের কান নিলো ছিলের মতো খবর পরিবর্তিত হয়ে মার্কাসের মৃত্যুসংবাদে পরিণত হয়। এ কান ও কান হতে-হতে সারা রোমান সাম্রাজ্য ছড়িয়ে পড়ে। এত বিশাল সাম্রাজ্যের মাঝে এত দূর থেকে তথ্য সত্যতা যাচাই করা সম্ভব ছিলনা। সুতরাং গুজবই সত্যি হিসেবে সর্বজন গৃহীত হয়।

মার্কাসের স্ত্রী ফাউস্টিনা ছিল সম্পূর্ণ সাম্রাজ্যের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী। ছিলেন আগের সম্রাটের মেয়ে, এবং মার্কাসের সন্তান জন্ম দেওয়া স্ত্রী। সুতরাং আগে থেকেই সাম্রাজ্যের নিয়মনীতিতে অভিজ্ঞ। একজন সম্রাটের মৃত্যুর পর তার পরিবারের একটা প্রাণও আর এ পৃথিবীতে শ্বাস নিতে পারে না। রোমান পার্লামেন্ট এমন সব ধূর্ত লোকদের নিয়ে গঠিত হত যারা সবাই সুযোগসন্ধানী এবং নিজেদেরকে সম্রাটের চেয়েও সাম্রাজ্যের যোগ্য মনে করে। এ সুযোগ সবার লোলুপ দৃষ্টির সবচেয়ে বড় খোরাক।

লুচিলা ছিল কম্মোডিয়াসের বড় বোন, বয়সের দিক থেকে ১২ বৎসর বড়। সম্রাট কন্যা হিসেবে ওপর-মহলের সবার সাথেই তার উঠবস। সাম্রাজ্যের কোনদিকের পানি কিভাবে কোন দিকে গড়ায় সব কিছুতেই ওয়াকিবহাল। বাবা মায়ের, নালায়েক কম্বোডিয়াসের প্রতি সুনজর তাকে ঈর্ষান্বিত করে তোলে।

ফাউস্টিনার কম্মোডিয়াসের ওপর বিশ্বাস ছিল একবারে শূন্যের কৌঠায়। তাই নিজের পরিবার এবং জীবন বাঁচাতে সাগর ফেরিয়ে ১০০০ মাইল দূরের মিশরে পাড়ি দেয়। মিশর ছিল সম্রাটের নিজের ভূমি, খাদ্যশস্যের প্রধান উৎপাদক। যার দায়িত্বে ছিল ২য় ক্ষমতাধর ব্যাক্তি ক্যাসিয়াস এবং যার নিরাপত্তায় ছিল ১৫০০০ সৈনিক।

সম্রাজ্ঞী হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং পরিবারের বাকী সদস্যদের নিরাপত্তার খাতিরে নিজেকে ক্যাসিয়াসের কাছে বিলিয়ে দেয়। ক্যাসিয়াস সিংহাসনের আশায় রোম জয় করার উদ্দেশ্যে সৈন্য পাঠায়। এবং, মাস-খানেকের মাঝেই অনেকগুলো অঞ্চল নিজেদের আওতাধীন করতে সক্ষম হয়।

এদিকে মার্কাস অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠে। এবং ফাউস্টিনা দ্রুতই জানতে পারে মার্কাসের মৃত্যুসংবাদ গুজব বৈ আর কিছু নয়! তাই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে মার্কাসের কাছে ছুটে আসে। একজন সম্রাটের সবচেয়ে শক্তির জায়গাগুলো হচ্ছে তার আপন জনের বিশ্বাস নির্ভরযোগ্যতা। কিন্তু সেটাই যখন বালিঘরে পরিণত হয় তখন তা টিকিয়ে রাখা নিতান্তই নির্বুদ্ধিতা।

জার্মেনিয়ানদের যেমন ছেড়ে যেতে পারবেনা ঠিক তেমনি এত বড় নিজ শক্তির বিরুদ্ধে আধেক শক্তি নিয়ে লড়াই করাও বোকামি। তাই ঘাতক দিয়েই পথের কাটা সরিয়ে নেয়। এদিকে ফাউস্টিনা যখন বুঝতে পারে, তার প্রতি যে বিশ্বাস ছিল তা আর নেই ভবিষ্যৎ যেকোনো সময় করুন হতে পারে তাই বিষ খেয়ে আত্ম হত্যা করে।

বলছিলাম, রোমান এম্পায়ার ধারাবাহিকের প্রথম বর্ষের প্রথম পর্বের ঘটনা। বলা হয়ে থাকে, এ সিরিজটা চরিত্রের কাল্পনিকতার চেয়ে ঐতিহাসিক সত্যি তুলে ধরায় অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। যদিও আমি নাটকের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসরের নাক গলানো পছন্দ করিনা কিন্তু ঐতিহাসিক গল্প তাও আবার রাজ-রাজড়াদের কিভাবে মিস করি! তাই দেখা শুরু করলাম।

এখন থেকে চেষ্টা করবো স্পয়লারলেস রিভিউর সাথে সাথে মূল গল্প মাতৃভাষায় বর্ণনা করার। যাতে রঘরঘে শারীরিক কসরতের ধারাবাহিক না দেখেও মূল ভাব অনুধাবন করতে পারবেন। যদিও কতটুকু তুলে ধরতে পারবো জানিনা চেষ্টা থাকবে ভালভাবে উপস্থাপনের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।