ক‍্যালিফর্নিকেশন – অনভূতির সাথে হাস্যরস ১৮+

californication

জীবনে এমন কিছু মূহূর্ত আসে যখন আপনি ঠিক ভেবে উঠতে পারেন না বর্তমান মূহূর্ত আপনার জন্য সুখকর নাকি অসুখকর! “অসুখকর” এই শব্দটি কেউ ব‍্যাবহার করে কিনা জানা নেই, শুনতেই কেমন রোগা-রোগা। এই মূহুর্তকে সম্ভবত ট্রাজেডি বলে, যখন হাঁসা বা কান্না নিজের প্রতি উপহাস মনে হয়।

ক‍্যালিফর্নিকেশন এমনি এক অনুভূতিকে ঘিরে তৈরি হ‌ওয়া গল্প। একজন লেখকের চরিত্র নিয়ে মূল চরিত্রে হাংক মুডি( ডেভিড ডুচওনি)। নামেই লেখক হাতে কোন লেখা নেই। সেই কবে একটি ব‌ই লিখে জনপ্রিয় হয়েছে সময়ের অংকে সে অনেক বড় সংখ্যা। সিনেমার স্ক্রিপ্ট কিংবা গল্প উপন্যাস যার বাঁ হাতের খেল। সেই আজ দু’হাতে ল‍্যাপটপের গাঁড়-মোড় ভেঙে ও জাতের কিছু বের করতে পারছে না। যা নিয়ে খেলছে তা দু’পায়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ। লেখক হ‌ওয়ার দরুন, নারীর কামনার দ্বার খুব সহজেই উন্মোচন করতে পারে আর বিছানায়তো বরাবরই চ‍্যাম্পিয়ন। মাঝে মাঝেই এই প্রশ্ন শুনে অবাক হয় “আমি কেমন?” কিছুটা গুগল প্লে স্টোরের আ‍্যপগুলোর মত, সবাই র‍্যাটিংস জানতে চায়।

লেখকরা উপমা দিয়ে নারীর শরীরের বর্ণনা দিতে জানে, তাই বোধহয় প্রকাশ‍্যে কিংবা একান্তে সবাই জানতে চায় “আমি কেমন?”।

এক লোভনীয় জীবনের গল্পবলা শুরু করলাম বোধহয়? রঙ্গিন চশমাটা সরিয়ে এবার বাস্তবে ফিরে আসি। প্রিয়তমা স্ত্রী আজ পরের বাগদত্তা, বিয়ে লোডিং অবস্থায়। কন‍্যা আজ পরের আলিশান বাড়িতে অন‍্যকারো কন‍্যা হয়ে জীবন যাপন করছে। হাতে কোন লেখা নেই, পকেটে টাকা নেই, ঘরে ব‌উ নেই! সব মিলিয়ে এক বিশাল শূন্যতা যা আছে তার নাম হতাশা।

অসাধারন লেখনী, দেখে পেটে খিল ধরা হাঁসি হাসবেন কিন্তু চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়া গরম নোনা জল স্মরণ করিয়ে দিবে “it’s a tragedy”

জনরার দিক থেকে কমেডি, পরিবার কেন্দ্রিক গল্প কিন্তু পরিবার নিয়ে দেখার সুযোগ নেই। যেকোনো সময় শরীরী আত্মা আদিমতম খেলায় লিপ্ত হতে পারে। বলতে পারেন, গেম অব থ্রোন্স কিংবা রোম এর পাড়াতো ভাই!

প্রথম সিজন দেখে শেষ করলাম, “ready for next round”।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।